বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা


বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রস্তুতি : অর্থনীতি (প্রতিমুহূর্ত.কম / www.protimuhurto.com) ---

পোশাক প্রস্তত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি  দেশবরেণ্য ব্যবসায়ী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারই একজন ব্যবসায়িক অংশীদার নূহের লতিফ খান। পোশাক খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবসায় আসা আনিসুল হক ও তার ছেলে নাভিদুল হকের অভিযোগ, তারা ‘দেশ এনার্জি লিমিটেডের’ দুই উদ্যোক্তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।

উদীয়মান ব্যবসায়ী  হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ‘দেশ এনার্জি’-এর পরিচালক নূহের লতিফ খান ও তার বোন অপর পরিচালক শাহপার সাবা এ মামলার বাদী। মামলায় তারা অধিকারের সুরক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। হাই কোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের বেঞ্চ ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার মামলাটি গ্রহণ করে এ বিষয়ে নোটিশ জারির নির্দেশ দেয়।

দেশের বিদ্যুৎ খাতে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে দেশ এনার্জি লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। এ প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এবং সিলেটের কুমারগাঁওয়ে গ্যাসচালিত ও তেলনির্ভর দুটি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র আছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১০ মেগাওয়াট। অভিযোগকারী ভাই-বোন নূহের লতিফ খান ও শাহপার সাবার দেশ এনার্জি লিমিটেডে শেয়ারের পরিমাণ ১০ শতাংশ করে।


নূহের লতিফ খান দেশ এনার্জি লিমিটেডের জন্মলগ্ন থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে এলেও গত ২৩ মার্চ আনিসুল হক ও নাভিদুল হক বোর্ড সভা করে তাকে অনিয়মতানিন্ত্রকভাবে পদচ্যুত করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার আর্জিতে।

মামলার আর্জিতে আরো বলা হয়, গত দুই বছর ধরে দেশ এনার্জির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুল হক এবং তার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনক নাভিদুল হকের সঙ্গে দুই আবেদনকারীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দুই উদ্যোক্তা পরিচালকের ‘ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে’ পাশ কাটিয়ে বিবাদীরা ‘অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারীমূলকভাবে’ প্রধান প্রধান ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত থেকে আবেদনকারীদের বাদ দেন। তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের দায়িত্ব পালনেও বাধা সৃষ্টি করা হয়। বিবাদীরা কোম্পানির কার্যক্রমকে ‘মারাত্মক অব্যবস্থাপনার’ মধ্যে ঠেলে দেন এবং দুই বাদীকে সরিয়ে দিতে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পীড়নের কৌশল গ্রহণ করেন।

অব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত হিসাবে মামলায় বলা হয়, ‘অননুমোদিত’ কোম্পানির মাধ্যমে সস্তা যন্ত্রাংশ কেনায় সিদ্ধিরগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পরিচালক হিসাবে নূহের বা তার বোনের স্বাক্ষর না নিয়েই দেশ এনার্জি থেকে বড় অংকের টাকা তুলেছেন আনিসুল হক, যার মাধ্যমে নিয়ম ভাঙা হয়েছে।

আর্জিতে আরো বলা হয়, বোর্ড রেজ্যুলেশন অনুসারে কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দুটি গ্রুপের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা। গ্রুপ-এ তে আছেন আনিসুল হক ও তার ছেলে নাভিদুল হক। আর গ্রুপ-বি তে রয়েছেন নূহের ও তার বোন। এই নিয়মের বিষয়টি ব্যাংককে জানানো থাকলেও দুই বিবাদী অন্য গ্রুপের কারো স্বাক্ষর ছাড়াই ২৮ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন।



নূহেরের আইনজীবী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন,  আনিসুল হক পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা ভঙ্গ করে দেশ এনার্জিকে একটি পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করছেন। তিনি ও তার ছেলে মিলে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূহের লতিফ খানকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তার গাড়ি কেড়ে নিয়েছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন তার জ্বালানি ও মোবাইল বিল। হুমকি-ধামকি ও পীড়নের  কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তাদের দেশ এনার্জি চত্বর ছাড়তে বাধ্য করেছেন। আবেদনকারীরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।


মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে আনিসুল হক বলেন, আদালতে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।  আসলে নূহের আমাদের কাছে এসেছিল বলেই আমরা তার সঙ্গে ব্যবসায় যাই। এই প্রতিষ্ঠানে তার এবং তার বোন সাবার শেয়ারের পরিমাণ মাত্র ২০ শতাংশ। তাদের বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য নয়।
দেশ এনার্জিতে কোনো বিনিয়োগ না করার যে অভিযোগ নূহের এনেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে আনিসুল বলেন, বিনিয়োগ ও দায় মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে মোহাম্মদী গ্রুপের অবদান চারশ কোটি টাকার বেশি।  

দায়িত্ব পালনে বাধার অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুল হক বলেন, নূহের নিয়ম ভেঙে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে ছিলেন। কোম্পানির অনেক জরুরি প্রয়োজনেও ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব থেকে দূরে থাকেন তিনি। এসব কারণে এমডি পরিবর্তনের জন্য ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী আমরা বোর্ড মিটিং ডাকি, যাতে নূহের ও সাবাও উপস্থিত ছিল। হুমকি দেয়ার যে অভিযোগ সে করেছে তা ভিত্তিহীন ও উদ্যেশ্যপ্রণোদিত। বরং তার অব্যবস্থাপনা আর সাপ্লায়ারদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশের কারণে কোম্পানি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আদালতেই মামলার ফয়সাল হবে বলে আনিসুল হক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শাকিব খানের নিউ কালেকশন 'তানিয়া'

সাভারে ১৪২টি মৃতদেহ উদ্ধার, আটকা আছেন কয়েকশ'

মনের গোপন ঘরে ভয়াল ব্যাধি `সিজোফ্রেনিয়া’