ভারতের বিশ্বশক্তি হওয়ার স্বপ্ন কতো দূরে ?

 ভারতের বিশ্বশক্তি হওয়ার স্বপ্ন কতো দূরে ?

 



 

প্রস্তুতি : আন্তর্জাতিক (প্রতিমুহূর্ত.কম/ www.protimuhurto.com) ---


 বিশ্বশক্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারত বহুদিন ধরেই। সেই লক্ষ্য নিয়েই দেশটি ১৯৭৪সাল থেকে পারমানবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। নাম লেখায় পরাশক্তির তালিকায়। গত ৩৯ বছর পর এসে এখন প্রশ্ন স্বপ্নপূরণে কতটুকু এগিয়েছে ভারত? বিশ্বশক্তি রূপে আবির্ভূত হওয়ার জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি কতটুকু মজবুত করতে পেছে দেশটি? এ প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।

বিশ্বশক্তি হওয়ার পথে ভারতের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এ সপ্তাহে প্রচ্ছদ মূল প্রতিবেদন করেছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম 'Can India Become a great power?'।
 
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত পাঁচ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক ভারত। দেশটি ফ্রান্স থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় সাড়ে ৯৩ হাজার কোটি টাকা) ১২৬টি রাফালে জঙ্গি বিমান কেনার কাজকর্ম একরকম শেষ করে ফেলেছে। এশিয়ায় চীন ছাড়া যেকোনো দেশের চেয়ে ভারতের সেনাসংখ্যা বেশি।
 
 
পাঁচ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়েছে মোট ৪৬ দশমিক আট বিলিয়ন ডলার (প্রায় তিন লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা)। সামরিক খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করছে এমন দেশগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান এখন সপ্তম। তবে ভারত যে হারে সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে, তাতে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটি জাপান, ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে ছাড়িয়ে চতুর্থ অবস্থানে পৌঁছাবে। দেশটির পারমাণবিক ওয়্যারহেডের সংখ্যা ৮০টিরও বেশি। স্বল্প সময়ে আরও অনেক ওয়্যারহেড তৈরি সক্ষমতা আছে দেশটির।
 
 
এ ছাড়া ভারতের হাতে আছে অনেকগুলো আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যা দিয়ে দেশটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের যেকোনো স্থানে হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি ভারত এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, যেটির পাল্লা পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এটি প্রতিবেশী বিশ্বশক্তি চীনের অধিকাংশ স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।
 
 
কিন্তু চীনের মতো বিশ্বশক্তি হতে হলে কেবল তার বুকে হামলা চালানোর ক্ষমতাই যথেষ্ট নয়। সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমকক্ষ হতে হবে। ছাড়াতে না পারলেও কাছাকাছি যেতে হবে। গত ৫০ বছরে চীন দারিদ্র্য দূরীকরণে এবং শিল্পায়ন, কৃষি, শিক্ষা ও গবেষণা এবং বিজ্ঞানচর্চায় যে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে, তার ধারেকাছে নেই ভারত। এর জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার পাশাপাশি চাই সময়। এর চেয়ে সিকি একক সময়ে সামরিক সামর্থ্য অর্জন করা যায়। এর আগে জার্মানি, রাশিয়া, জাপান ও চীন তা করে দেখিয়েছে। কিন্তু যে ভারতের ষষ্ঠ বিশ্বশক্তির মর্যাদা পেতে উন্মুখ, সে চীনের অর্থনৈতিক শক্তি দূরের কথা, সামরিক দিক দিয়েও কি ধারেকাছে আসতে পেরেছে।
 
 
‘দ্য ইকোনমিস্টের’ প্রতিবেদনে চীন ও ভারতের সামরিক শক্তির একটি তুলনা উপস্থাপন করা হয়েছে। চীন ও ভারতে সেনাসংখ্যা যথাক্রমে ২২ লাখ ৮৫ হাজার ও ১৩ লাখ ২৫ হাজার; ট্যাংক সাত হাজার ৪৩০টি ও তিন হাজার ২৭৪টি, সাবমেরিন ৬১টি ও ১৫টি; যুদ্ধবিমান এক হাজার ৯০৩টি ও ৮৭০টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ৫০২টি ও ৫৪টি।
 
 
শক্তির তফাত এত বেশি যে, এ নিয়ে খুব বেশি তর্ক করা চলে না। তাও হয়তো চলত যদি অর্থনৈতিক শক্তির পাল্লায় হেরফের খুব সামান্য হতো। তবু চীনের উত্পাদকদের জন্য নতুন বাজার যখন নিঃশেষিত হয়ে আসছে, তখন ভারতের উত্পাদকেরা নিজের দেশের বিশাল বাজারে পথ চলতে শুরু করেছে। আর বিশ্বের বাজার তো পড়েই আছে। তাই ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনা দেখছে বিশ্ব।
 
 
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো একটি ‘নিরাপত্তা কৌশল’ নির্ধারণ করা এবং পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য লোকবলসহ অন্যান্য যোগ্যতা অর্জন করা। পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের ১২০ কোটি মানুষের জন্য যে লোকবল আছে, সিঙ্গাপুরের ৫০ লাখ মানুষের জন্য লোকবলও সে পরিমাণের। সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক আমলাতন্ত্র একই লক্ষ্যসাধনে দুটি ভিন্ন পথে কাজ করে। এসব সমস্যা কাটাতে না পারলে, ভারতের স্বপ্ন হয়তো বাস্তবে ধরা দেবে না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শাকিব খানের নিউ কালেকশন 'তানিয়া'

সাভারে ১৪২টি মৃতদেহ উদ্ধার, আটকা আছেন কয়েকশ'

মনের গোপন ঘরে ভয়াল ব্যাধি `সিজোফ্রেনিয়া’