জেল হত্যা মামলার রায় ৩০ এপ্রিল


 জেল হত্যা মামলার রায় ৩০ এপ্রিল

 


 প্রস্তুতি :  আদালত (প্রতিমুহূর্ত.কম/ protimuhurto.com)

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার শুনানী ও যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় দেয়া হবে আগামী ৩০ এপ্রিল।  ১৭ এপ্রিল বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চে আসামিপক্ষের আইনজীবীর  যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য্য করেন।


আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হাইকোর্ট থেকে আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধা খালাস পেয়েছেন। এই দুই আসামি কারাগারে গেছেন বলে সাক্ষ্য প্রমাণে উঠে আসেনি।
 
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আনিসুল হকবলেন,  ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ রাষ্ট্রপক্ষের ছিল না।  সে সময়ে এ মামলার মোড় অন্যদিকে ঘুড়িয়ে দেয়া হয়। এর ফলেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছিল হাইকোর্ট।
 
 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। এ নির্মম ও বর্বরোচিত ঘটনার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়।
 
 
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেয়। রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করে।
 
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর  আনিসুল হক জেল হত্যা মামলা  প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটির দুটি দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে অপরাধ সংগঠন, অপরটি হলো ষড়যন্ত্র। সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তারা কারাগারে এসে চার নেতাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে অন্য একটি দল এসে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। নির্মম ও বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য দীর্ঘদিন জাতি অপেক্ষায় আছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শাকিব খানের নিউ কালেকশন 'তানিয়া'

সাভারে ১৪২টি মৃতদেহ উদ্ধার, আটকা আছেন কয়েকশ'

মনের গোপন ঘরে ভয়াল ব্যাধি `সিজোফ্রেনিয়া’